ভূমিকা (Introduction)
ইসলাম আগমনের পূর্বে বা প্রাক ইসলামী যুগে আরবের পটভূমি ছিল অতি শোচনীয়, কঠিন, জটিল ও নানান ধরনের কুকর্ম এবং পাপ দ্বারা পরিপূর্ণ। ইসলামের ইতিহাসে এই যুগকে “আয়্যামে জাহেলিয়া” অর্থাৎ অজ্ঞতার যুগ বলা হয়ে থাকে। এই যুগটিকে আমরা যতটা অজ্ঞতাপূর্ণ মনে করি, এই যুগের কিছুগুলো কাব্য সাহিত্য বা কলা কৌশলের প্রতি লক্ষ্য করলে বোঝা যায় যে এই যুগটা ততোটা অজ্ঞতাপূর্ণ ছিলনা। তবে এই যুগের জঘন্য কুকর্ম গুলো এতো নিম্ন স্তরের ছিল যে, তাদের মধ্যে যেগুলো ভালো গুণ ছিল সেগুলো হিসাবেই আসেনা। আজকে আমারা এই ব্ল’গ পোস্টটির জরিয়তে এই “আয়্যামে জাহেলিয়া” অর্থাৎ অজ্ঞতার যুগ বা ইসলাম আগমনের পূর্বের আরবের পটভূমির (Pre-Islamic State of Arabs) ভাল এবং দুইটা দিক থেকেই পর্যালোচনা করব ইনশাল্লাহ।
তৎকালীন আরবদের বৈশিষ্ট্য (The Characteristics Of Arabs At That Time)
প্রাক-ইসলামী যুগ বা জাহেলী যুগে আরবদের অতিশয় শোচনীয় ছিল যদিও, সেই সময়ে তাদের মধ্যে কিছু ভালো গুনো পরিলক্ষিত হয়। এই অধ্যায়ে আমরা তৎকালীন আরবদের ভালো এবং মন্দ উভয় বৈশিষ্ট্য গুলো মিশ্রিত আকারে পর্যালোচনা করব, আশা করছি আপনারা সবাই ধৈর্য সহকারে আমাদের সাথেই থাকবেন ইনশাল্লাহ।
১/ নিজ গোত্রের আভিজাত্যের ধারণা (Thought Of Nobility To Their Own Community)
প্রাচীন আরব সমাজে স্বগোত্রের আভিজাত্যের ধারণা তীব্র আকারে বিদ্যমান ছিল। একই জায়গা বা অঞ্চলে বসবাস করা ভিন্ন গোত্রের লোক একে অপর থেকে আলাদা বা অভিজাত শ্রেণীর বলে মনে করত। সেই সময়ে আরবের ভূমিতে অসংখ্য গোত্র বসবাস করত, প্রত্যেক গোত্রই নিজের গোত্রকে সর্বাধিক অভিজাত ও মর্যাদার অধিকারী ধারণা করত। এই স্বগোত্রীয় তীব্র অনুভূতির কারণে তারা গোত্রে গোত্রে মিলেমিশে থাকতে পারতনা, তাদের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ, হিংসা-বিদ্বেষ, ঘৃণা অনবরত চলতেই থাকত। তারা নিজেদের বংশ মর্যাদা প্রচার এবং আভিজাত্য ফলাও করার ব্যাপারে সদা সর্বদা প্রচেষ্ট থাকত। তারা এক শ্রেণীর লোক শুধু মাত্র এই কাজের জন্যই নির্ধারণ করে রাখত যে, তারা স্বীয় গোত্রের সাথে ভিন্ন গোত্রের তুলনামূলক অধ্যায়ন করবে এবং অন্য গোত্রের গোত্রের কোন জায়গায় দোষ-ত্রুটি ও দুর্নাম আছে তা বের করে আনবে। এর দ্বারা তারা অন্য গোত্রের লোকদেরকে অত্যাচার ও অপদস্ত করার সুযোগ পেত।
২/ নারীর অমর্যাদা (Dishonour To Wemen)
জাহেলী যুগে আরব সমাজে নারীদের মান-সন্মান, মর্যাদা ও অধিকার বলে কিছু ছিল না। তারা নারীদেরকে শুধু মাত্র পুরুষদের ভোগের সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করত এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে লোহার শিকলে বেঁধে তাদেরকে বাজারে বিক্রি করা হত। তাদের ঘরে কন্যা সন্তান জন্ম নিলে নিজেকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্য ও অপমানিত বোধ করত। কখনো কখনো তারা তাদের নবজাত কন্যা সন্তানকে জীবন্ত পুতে দিত।
৩/ গোত্রীয় বিবাদ (Tribal Confliction)
প্রাক ইসলামী যুগে আরবের অসংখ্য গোত্রগুলো সাধারণত পরস্পর মিলে মিশে থাকতে পারতনা। ছোট ছোট বস্তু বা বিষয় নিয়ে তারা ঝগড়া-বিবাদ করত। কখনো কখনো ছোট খাট বিবাদগুলো বিশাল রূপ ধারণ করত এবং একাধিক গোত্রের মিত্রজোট গঠন করে খোলা ময়দানে যুদ্ধের মাঠে নেমে পড়ত। যুদ্ধে পরাজয় বরণ করা দল যুগ যুগ ধরে প্রতিশোধের আগুন বুকের ভিতর চাপা দিয়ে রাখত এবং এই বিবাদ গুলো দীর্ঘস্থায়ী হত।
৪/ তীক্ষ্ণ স্মরণ শক্তি (Sharp Memory Power)
জাহেলী যুগে আরবদের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষই ছিল অশিক্ষিত। কিন্তু লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো তাদের স্মরণ শক্তি এতটাই তীক্ষ্ণ ছিল যে তারা স্ব বংশীয় মর্যাদা রক্ষার্থে নিজেদের সাহিত্যিক রচনারাজি যুগের পর যুগ স্মরণ করে ধরে রাখতে সক্ষম ছিল। এই প্রক্রিয়া কোনো পাঠশালায় নয় বরং শুধু মাত্র মুখে মুখেই প্রচলিত ছিল।
৫/ অসাধারণ কাব্য প্রতিভা (Wonderful Poetry Talent)
জাহেলী যুগে যদিও অধিকাংশ আরব বাসীরা অশিক্ষিত ছিল তবুও তাদের একটি অসাধারণ গুন ছিল তাদের কাব্যিক প্রতিভা। সেই যুগে আরবগন ভাবাবেগে উত্তেজিত হয়ে তাদের মনের কথা সাবলীল কবিতার ছন্দে মুখ দিয়ে বলে যেতে। এক কথায় বলতে গেলে তারা ছিল স্বভাব কবি। লক্ষণীয় বিষয় হলো সেই যুগের অশিক্ষিত লোকেরা যেগুলো কবিতা রচনা করেছিল, আজ সেগুলো বিশ্বের প্রায় সবগুলো দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে ছাত্রদের পাঠ্যক্রমে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং সেই যুগের কবিদেরকে বর্তমান বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ কবিদের সারিতে স্থান প্রদান করা হয়েছে।
আরবদের ইসলাম আগমনের পূর্বের ধর্মীয় বিশ্বাস (Pre-Islamic Religious Faith Of Arabs)
ইসলাম পূর্ব যুগের আরবের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় ছিল। আরব বাসীরা চরম অন্যায় ও পাপের সাগরে নিশ্চিন্তে গা ভাসিয়ে দিয়েছিল। নৈতিকতা বলতে তাদের মাঝে কিছু ছিলনা। ধর্ম পালনের নামে তাদের মধ্যে ছিল শুধু অজ্ঞতা, মুর্খতা, অগ্নি উপাসনা ও পৌত্তলিকতা। তারা একেশ্বরবাদ ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন জনে বিভিন্ন ধরনের বস্তু বা মুর্তি পূজায় লিপ্ত হয়েছিল।
তৎকালীন আরব বাসীরা আল্লাহর ইবাদত করার সমান্তরাল ভাবে দেব-দেবী ও ভূত-প্রেত এসবেরো পূজা করা হেতুকে তাদের ধর্ম ও বিশ্বাস পদ্ধতি ছিল খুবই জটিল। এর চেয়ে বেশি জটিল ছিল আরবের বেদুঈনদের বিশ্বাস পদ্ধতি। এই বেদুঈনরা ওপরন্ত উল্লেখিত দেব-দেবী ও ভূত-প্রেত ছাড়াও চন্দ্র, সূর্য, বৃক্ষ এসবেরো উপাসনা করত।
নাজরান অঞ্চলে, ইয়ামেনে, ইরাকে ও সিরিয়া প্রান্তে কিছু খ্রিস্টান এবং মদিনায় ও খায়বারে কিছু ইহুদীদের বসত ছিল। এছাড়া হানিফ নামে একটি একেশ্বরবাদী সম্প্রদায়ও ছিল কিন্তু তাদের একেশ্বরবাদ ততোটা ষ্পষ্ট ছিলনা। এই ছিল আরবদের মোটামুটি ধর্ম ও বিশ্বাস পদ্ধতি।
আরবদের ইসলাম আগমনের সামাজিক পূর্বাবস্থা (Pre-Islamic Social State of Arabs)
মদ্যপান ও জুয়াখেলা
জাহেলী যুগে (Pre-Islamic Period) আরবের লোকেরা অবাধে মদ পান করত এবং জুয়া খেলত। মদ্যপান ও জুয়াখেলা তাদের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে পরিণত হয়েছিল। আরবের অধিকাংশ লোকই এর জড়িত ছিল। অবশ্যে মুষ্টিমেয় কিছু লোক ছিল যারা মদ্যপান ও জুয়াখেলা থেকে বিরত থাকত। কিন্তু তাদের সংখ্যা ছিল অতি নগণ্য, কারণ সেই যুগে যারা মদ্যপান ও জুয়াখেলা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করত তাদেরকে কৃপণ বলা হতো। যার দরুন কেউ এ থেকে বিরত থাকতে চাইলেও ততোটা সহজ ব্যাপার ছিল না।
গরীবদের ওপর অত্যাচার
জাহেলী যুগে আরবের সম্ভ্রান্ত শ্রেণীর লোকেরা গরীবদের ওপর নির্ভীগ্নে অত্যাচার চালিয়ে যেত। ধনী লোকেরা গরীবদেরকে উচ্চ সুদের হারে ঋণ দিত এবং কখনো কখনো সময়ের পূর্বেই ঋণের মুদ্রা আদায়ের জন্য চাপ দিত বা বল প্রয়োগ করত। সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে ঋণ দাতা ঋণ গ্রহিতার সম্পত্তি এমনকি তাদের স্ত্রী ও সন্তানাদি ও বলপূর্বক ও জোর জবরদস্তি দখল করে নিত।
নারীদেরকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা
ইসলাম আগমনের পূর্বে আরবের ভূমিতে নারীদের মর্যাদা ও অধিকার বলে কিছু বাকি ছিল না। নারীদেরকে শুধু মাত্র পুরুষদের ভোগের সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করা হত। তাদেরকে স্বাধীনতার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হত, মর্যাদার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হত, সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হত এমনকি বেঁচে থাকার অধিকার থেকেও তাদেরকে বঞ্চিত করা হত।
জাহেলী যুগ এমন একটি যুগ ছিল যেই যুগে যদি কোন ব্যক্তির ঘরে কোনো কন্যা সন্তান জন্ম নিত, সে ব্যক্তি নিজেকে দুর্ভাগ্য বলে মনে করত। তাই তারা নিজেদের নবজাত কন্যা সন্তানদেরকে জীবন্ত কবর দিত। নারীদের সামাজিক বা মানসিক কোনো মূল্যে ছিল না, তাদেরকে লোহার শিকলে বেঁধে বাজারে বিক্রি করা হত। কতটা নির্মম ছিল সেই যুগের মানুষ। তাই বুজুর্গ গন সেই যুগটাকে “জাহেলী যুগ” অর্থাৎ অজ্ঞতার যুগ হিসেবে নামকরণ করেছেন।
আরবদের ইসলাম আগমনের রাজনৈতিক পূর্বাবস্থা (Pre-Islamic Political State Of Arabs)
প্রাচীন আরবে কখনোই কোনো ধরনের রাজ শাসন বা কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় না। কেননা তথাকার প্রতিজন নর-নারীই ছিল অতিমাত্রায় স্বাধীনচেতা। তাই কোনো শক্তিশালী শাসক কিংবা নেতার দ্বারাই এটি কখনো সম্ভব হয়ে উঠতে পারেনি যে আরবের বুকে কোনো শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তাদের মাঝে কোনো নৈতিক অনুশাসন কিংবা সর্বজন মান্য কোনো নিয়ম-পদ্ধতিও প্রচলিত ছিল না, যার দ্বারা দেশের জনসাধারণের জান-মাল এবং মান-সম্মানের সুরক্ষা নিশ্চিত হতে পারে। এ কারণে ব্যক্তিগত বা বংশগতভাবে অন্য গোত্রের ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের সাথে সন্ধিপত্র বা কোনোরূপ আপোস রফা প্রতিষ্ঠিত করে চলতে বাধ্য হত। এ ব্যবস্থার ফলে, যদি কেউ কারো ওপর অত্যাচার করত তবে অত্যাচারিত ব্যক্তি ও তার স্বজনদের জন্য অত্যাচারীর নিকট থেকে ক্ষতিপূরণের চেষ্টা করা হত। যদি একান্ত হিসেবে ব্যবস্থা ফলদায়ক না হত তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে যেত। তখন শেষ ব্যবস্থা হিসেবে কোষোন্মুক্ত অসির আশ্রয় গ্রহণ করা হত এবং তখন উভয় পক্ষ উলঙ্গ অস্ত্র নিয়ে সংগ্রামের মাঠে নেমে পড়ত। গোত্রে গোত্রে এ সংঘাত ভীষণ ও ব্যাপক আকার ধারণ করত এবং এই সংঘাত দীর্ঘকাল পর্যন্ত স্থায়ী হত। কারণ উভয় পক্ষের সঙ্গে আরো অনেক গোত্রের লোক যোগদান করে শক্তিশালী করে তুলত।
এইভাবে প্রাক ইসলামী বা জাহেলী যুগে আরবের লোকগন সাধারণ বা ছোট-খাট বিষয় নিয়ে যুগ যুগ ধরে লড়াই করত। ঐতিহাসিক গীবনের মতে, প্রাক ইসলামী যুগে ১৭০০ টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।
প্রাক ইসলামী যুগে আরবরা নানা গোত্রে বিভক্ত ছিল। “শেখ” ছিল তাদের দলপতির উপাধি। কেন্দ্রীয় শাসনের অনুপস্থিতির কারণে “জোর যার মুল্লুক তার”, “খুন কা বদলা খুন” এগুলো ছিল তাদের রাজনৈতিক মূল মন্ত্র। জাহেলী যুগে আরবদের রাজনৈতিক জীবনের ভিত্তি ছিল গোত্রীয় শাসন। গোত্রের সকলেই একে অপরের সাহায্য করা নিত্যান্ত প্রয়োজন মনে করত। তৎকালীন আরবে সংবিধান বলতে ছিল তাদের ব্যক্তিগত ধর্মমত।
লক্ষণীয়ভাবে এই বিশৃঙ্খলার মাঝে তৎকালীন মক্কায় “মালা” নামে একটি মন্ত্রণা পরিষদ গড়ে উঠেছিল। এই পরিষদটি মক্কা এবং শহরতলীর শাসন ব্যবস্থা তদারকি করত।
আরবদের ইসলাম আগমনের সাংস্কৃতিক পূর্বাবস্থা (Pre-Islamic Cultural Status Of Arabs)
প্রাক ইসলামী যুগে আরবদের সাংস্কৃতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল “উকাজ মেলা”। এই উকাজ মেলা প্রতি বছরে একবার অনুষ্ঠিত করি হত। এই মেলায় সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন অবদান এবং কৃতিত্বের জন্য পুরস্কার বিতরণ করা হত। অবশ্যে উক্ত উকাজ মেলায় গান-বাজনার সমান্তরাল ভাবে অশ্লীল কারবারো চলত।
তৎকালীন আরবে এক বিশেষ রেওয়াজ ছিল যে সেখানে বিভিন্ন পর্ব ও উৎসব অনুষ্ঠানে লোকেরা ধুমধামের সাথে বিভিন্ন হাট-বাজার, প্রান্তর কিংবা মেলায় প্রতিযোগিতামূলক প্রদর্শনী সভা অনুষ্ঠিত করত। এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন গোত্রের শ্রেষ্ঠ কবিগণ অংশগ্রহণ করত এবং যারা এতে জয়লাভ করত তারা নিজেদের বিজয় সহ স্বীয় গোত্রের মুখ উজ্জ্বল এবং গৌরব বৃদ্ধি করে দিত।
প্রাক ইসলামী যুগে আরবরা কাব্য ও সাহিত্য চর্চায় পারদর্শিতা লাভ করে ছিল। তাদের গীতিকাব্য ও কাসিদা ঐতিহাসিক ভাবে স্বীকৃত। তাদের কাব্য সাহিত্য বৈশিষ্ট্য মন্ডিত থাকলেও সেখানে যৌনতা ও নারীদের বর্ণনা থাকত। তেনারা প্রবাদ প্রবচনে দক্ষ ছিল। তাদের প্রবাদ গুরুত্বের কারণে লোকের মুখে মুখে থাকত। তৎকালীন আরবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মেলা ছিল তায়েফের মেলা। এই মেলাও আরবের সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলত।
তৎকালীন আরবী কাব্য রচনাগুলো ছিল অতি উচ্চ স্তরের। এই কাব্য সমূহের মূল বিষয়বস্তু যদিও নগ্ন যৌন আবেদনে পূর্ণ ছিল, তবুও সাহিত্যিক জগতে তার মূল এত বেশি যে, আজকের এই সভ্য যুগেও ওই সমস্ত কাব্য বিভিন্ন দেশের শিক্ষায়তনে ছাত্রদের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই শ্রেণীর কবিতা রচয়িতাদের মধ্যে আবু নাওয়াস, ইমরুল কায়েস, জুহায়ের, হারেছ প্রমুখ কবিগণ বর্তমান বিশ্বের যে কোন দেশের প্রথম সারির শ্রেষ্ঠ কবিগণের সমতুল্য।
আরবদের ইসলাম আগমনের অর্থনৈতিক পূর্বাবস্থা (Pre-Islamic Economic Status Of Arabs)
প্রাক-ইসলামী যুগে (Pre-Islamic) আরবদের অর্থনৈতিক অবস্থাও খুব একটা ভালো ছিল না। সুবিশাল আরবের অধিকাংশ ভূমিই হ’ল শুষ্ক এবং অনুর্বর মরুভূমি। প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম খাদ্য সামগ্রী উৎপন্ন হত। তৎকালীন আরবদের জীবিকা অর্জনের উৎস কয়েকটি ভাগে বিভক্ত ছিল সেগুলো নীচে আলোচনা করা হলো-
শহরবাসী ব্যবসায়ীঃ আরবের শহরবাসী ব্যবসায়ীরা বহিঃ জগতের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে মিশর, সিরিয়া, পারস্য ও ভারতে ব্যবসা-বানিজ্য করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করত। এই ব্যবসায়ী শ্রেণীর লোকেদের অর্থনৈতিক অবস্থা আরবের অন্যান্য শ্রেণীর লোকেদের তুলনায় অনেকটা ভালো ছিল।
মরুবাসী বেদুঈনঃ মরুবাসী বেদুঈনরা ব্যবসায়-বানিজ্য কিংবা ভূমিকর্ষণ কে মর্যাদা হানিকর মনে করত। পশুচারণ, শিকার ও দস্যুবৃত্তি ছিল তাদের জীবিকার মূল উৎস।
মূর্তির কারিগরীঃ জাহেলী যুগে আরবদের এক শ্রেণীর লোক মূর্তি তৈরির কাজে নিয়োজিত ছিল। এই শ্রেণীর লোকদের অবস্থাও অনেকটা ভালোই ছিল কারণ সেই সময়ে আরবের অধিকাংশ লোকেরা মূর্তি পূজা করত এবং মূর্তির অনেকটা গুরুত্ব ছিল।
অন্যান্য পেশাঃ আরবের অধিকাংশ অঞ্চল মরুময় যদিও কিছু কিছু অঞ্চলে আবার চাষাবাদ ও করা হত। তবে তাদের অর্থকরী মূল ছিল খেজুর। তাদের কিছু সংখ্যক লোক চাকরি ও করত এবং (বিশেষ করে) ইহুদীরা সুদের ব্যবসা করত।
উপসংহার (Conclusion)
আরবদের ইসলাম আগমনের পূর্বাবস্থা (Pre-Islamic State of Arabs) অধ্যায়ন করার পর আমরা দেখতে পেলাম যে, আরবের সেই বর্বর যুগে তাদের অবস্থা কতটা শোচনীয় ছিল। আমরা আরো দেখতে পেলাম যে, সেই অজ্ঞতা বা অন্ধকার যুগেও তাদের মধ্যে কতগুলো সকারাত্মক গুনো বিদ্যমান ছিল। তবে তাদের অসংখ্য ও অগনন জঘন্য ও গর্হিত কার্যকলাপের তুলনায় তাদের ভালো দিকগুলো মূল্যহীন হয়ে যায়। তাই প্রাক ইসলামী যুগের সবগুলো দিক পুঙ্খানুপুঙ্খ অধ্যায়ন করে উলামায়ে কেরাম গন সেই যুগটাকে “জাহেলী যুগ” অর্থাৎ অজ্ঞতার যুগ হিসেবে নামকরণ করেছেন।
ধন্যবাদ জানাচ্ছি এত সময় আমাদের সঙ্গে জুড়ে থাকার জন্য। আপনাদের কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করার থাকলে আমাদের Contact Page ভিজিট করে আমাদের সাথে বিনা দ্বিধায় যোগাযোগ করতে পারেন।